যেসব মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ এরই মধ্যে বাড়ানো হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ইউনিটহোল্ডারদের ভোটের মাধ্যমে এসব ফান্ডের রূপান্তর কিংবা অবসায়নের সুপারিশ করেছে পুঁজিবাজার সংস্কারসংক্রান্ত টাস্কফোর্স। পাশাপাশি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক অনুমোদন নেয়ার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ও পাবলিক ইস্যু বিধিমালাসংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিয়েছে টাস্কফোর্স। সেখানে এসব সুপারিশ করা হয়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার বিষয়ে টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে সব মেয়াদি ফান্ডকে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে অবসায়ন করতে হবে। তবে ইউনিটহোল্ডারদের তিন-চতুর্থাংশ যদি বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের পক্ষে ভোট দেয় তাহলে তা বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর হতে পারবে। যেসব ফান্ডের মেয়াদ এরই মধ্যে বাড়ানো হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সংশোধিত বিধিমালা কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ইজিএম আহ্বান করে রূপান্তরের বিষয়ে ভোট গ্রহণ করতে হবে। ইউনিটহোল্ডারদের ৭৫ শতাংশ ভোট রূপান্তরের পক্ষে না এলে তিন মাসের মধ্যে ফান্ডটি মেয়াদ শেষ বিবেচনায় অবসায়ন করতে হবে। গ্রোথ, ব্যালান্সড, শরিয়াহভিত্তিক, ফিক্সড ইনকাম ও মানি মার্কেট ফান্ডের জন্য পৃথক সম্পদ বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
সুপারিশে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালায় একক শেয়ারে বিনিয়োগসীমা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ ও একক শিল্প খাতে বিনিয়োগসীমা ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত নয় এমন ইকুইটি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির বন্ড ও প্রেফারেন্স শেয়ারে বিনিয়োগ করা যাবে। মিউচুয়াল ফান্ডের মোট বার্ষিক ব্যয় অনুপাত সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ফিক্সড ইনকাম ও মানি মার্কেট ফান্ডের ক্ষেত্রে এ হার ২ শতাংশ হবে। এছাড়া মেয়াদি ফান্ডকে নির্দিষ্ট বছরে অর্জিত লাভের ন্যূনতম ৭০ শতাংশ ইউনিটহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করতে হবে। আর বেমেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ন্যূনতম লভ্যাংশ হবে সেই বছরের অর্জিত লাভ বা ভারিত গড় আয় এ দুটির মধ্যে যেটি কম, তার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ।
পাবলিক ইস্যু বিধিমালা বিষয়ে টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাথমিক অনুমোদন দেবে এবং সেই ভিত্তিতে বিএসইসি চূড়ান্ত অনুমোদন করবে।
আইপিও বা পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে যারা নিরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করবে তাদের উপযুক্ত ও সঠিক মানদণ্ড দেয়া হয়েছে; যার মাধ্যমে আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নিরীক্ষা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।
সুপারিশে তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানির সঠিক মূল্যায়নের জন্য একটি সুগঠিত আইপিও ভ্যালুয়েশন মডেল তৈরি করা হয়েছে। ফলে আগামীতে ভালো ও মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্তিতে উৎসাহী হবে। এছাড়া আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ইস্যু ম্যানেজারদের সুনির্দিষ্ট দায়দায়িত্ব ও ভূমিকা নির্ধারণ করার পাশাপাশি ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণে বিস্তারিত সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ অধিকতর সুরক্ষিত থাকে।
বিএসইসি জানিয়েছে, টাস্কফোর্সের সুপারিশের আলোকে আইনি সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে এবং এগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। সুপারিশমালা হস্তান্তরের সময় আরো উপিস্থিত ছিলেন টাস্কফোর্সের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের (বিয়াক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেএএম মাজেদুর রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন।